Menu
 
       
বাংলাদেশ

নওগাঁয় অসহায় একটি পরিবারের ঢেঁকিই একমাত্র সম্বল


 
নওগাঁয় অসহায় একটি পরিবারের ঢেঁকিই একমাত্র সম্বল  54522 
 

নওগাঁ: জহির উদ্দিন কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন অনেক আগেই। বয়সের ভারে আজ অচলাবস্থা। চোখের দৃষ্টিশক্তি নাই। এমনকি কানেও ঠিকমত শুনতে পাননা। সারা জীবন অন্যের বাড়ীতে কামলা দিয়ে আসা প্রায় শত বছর বয়সী জহির উদ্দিনের এখন বেঁচে থাকাও ক্ষীণ হয়ে এসেছে। খেঁয়ে না খেয়ে ২ প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে দিনাতিপাত করছেন তিনি। নওগাঁ প্রতিনিধি আব্দুল মান্নানের তথ্য ও ভিডিও চিত্র নিয়ে একটি ডেক্স রিপোর্ট।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার নবগ্রামের শত বছর বয়সী জহির উদ্দিন দুই মেয়ে আবিয়া বেওয়া ও জুলেখা খাতুন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে একটি কুড়েঘরে বসবাস করেন। একটি মাত্র থাকার ঘর। ঘরটি বাঁশের বেড়ায় কাদাঁমাটির প্রলেপ,টিনের ছাউনি। ঘরে ভাঙ্গা একটা চৌকি ছাড়া তেমন কিছুই নেই। ঘরের বাহিরে বারান্দায় শীতের সময় বাতাসে ঠান্ডার হাত থেকে কিছুটা ¯^স্থিপেতে পলিথিন টাঙ্গিয়ে সেখানে শুয়ে থাকেন জহির উদ্দিন । এক সময় মানুষের বাড়ীতে বছরে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছেন জহির উদ্দিন। শারীরিক শক্তি হারিয়ে বয়সের ভারে আজ তিনি অক্ষম। প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় চলাচল করেন। প্রায় ২৫ বছর থেকে আর কাজ করতে পারেননা। 

বড় মেয়ে আবিয়া বেওয়ার গত ১১ বছর আগে ¯^ামী মারা যাওয়ায় বাবার বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার এক মেয়ে। বিয়ে দিয়েছেন পাশের গ্রামে। জামাইয়ের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। তারা কোন খোঁজ খবর রাখেনা। এখন এক বেলা খাবার জুটলেও দু’বেলা নাখেয়ে থাকতে হয় তাদের।
ছোট মেয়ে জুলেখা খাতুন। জন্মের পর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী। দৃষ্টিশক্তি কম,কথাও অপষ্ট। লাঠি ধরে চলাফেরা করে। এখনও তার কোন প্রতিবন্ধী কার্ড হয়নি। তাদের একটাই দাবি তারা যেন খেয়ে পরে বেচেঁ থাতে পারে।

ঘরের পাশেই তাল পাতার ভাঙ্গাচুরা ছাউনির নিচে ‘ঢেঁকি’। আর ‘ঢেঁকি’ একমাত্র তাদের সম্বল। গত ১০ থেকে ১১ বছর ঢেঁকি দিয়ে প্রতিবেশীদের আটা কুঁড়ে (চাউল ভেঙ্গে) সেখান থেকে তারা যা দেয় তা দিয়ে দিন পার হয়। আর আটা কুঁড়তে সহযোগীতা করেন বড় মেয়ে আবিয়া বেওয়া। বয়স হওয়ায় তিনি এখন আর তেমন কাজ করতে পারেননা। তবে বর্ষা মওসুমে ঝড়বৃষ্টিতে তাল পাতার ভাঙ্গাচুরা ছাউনি দিয়ে পানি পরলে সেদিনের মতো আটা কুঁড়া বন্ধ থাকে। 
কোন আয়ের উৎস না থাকায় একই পরিবারে তিনজন সদস্য আজ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জীবনের অন্তিম মূর্হুতে এসে তারা যেন খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারে এজন্য সরকারসহ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহযোগীতা কামনা করছেন এলাকাবাসী। 

এই পরিবারটা খুবই অসহায়। একবেলা খেয়ে দু’বেলা না খেয়ে দিন পার করতে হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাদের প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়না। তারা যেন দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারেন এজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, সমাজের বিত্তবানসহ সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

আব্দুল মান্নান
নওগাঁ।


71 নিউজ টিভি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



71 নিউজ টিভি সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

 

Banner 2