Menu
 
       
বাংলাদেশ

‘খুনি যেই হোক স্বামী হত্যার দৃষ্টান্ত শাস্তি চাই’


 
‘খুনি যেই হোক স্বামী হত্যার দৃষ্টান্ত শাস্তি চাই’  13182 
 

যে মানুষটি জনগণের কল্যাণে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে গেছে, সেই মানুষটিকে এভাবে কি কেউ হত্যা করতে পারে। সকলের প্রতি আমার আবেদন আপনারা আমার স্বামীর হত্যাকারীদের খুঁজে বের করুন। আমি শুধু আমার স্বামীর নৃশংস হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেতে চাই। 

ঠিক এভাবেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মঙ্গলবার বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বামনডাঙ্গা আবদুল হক কলেজ মাঠে জেলা পুলিশের আয়োজনে আইন-শৃক্সখলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী জেলা আওয়ামী মহিলালীগের নেত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি।

তাকে সমবেদনা জানিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ পুলিশের (আইজিপি) এ, কে, এম শহীদুল বলেন, ‘আপনার বেদনা আমি বুঝি। আমি ওয়াদা করলাম লিটন হত্যার খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় অবশ্যই আনব’।

তিনি আরও বলেন, ‘লিটনকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু হত্যাকারী যেই হোক তারা কোন ভাবে বেঁচে যেতে পারবে না। লিটন হত্যাকারীদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে সেই আশ্বাস ও অঙ্গীকার করার জন্য সুন্দরগঞ্জে এসেছি’। 

এরআগে, গত ৩ জানুয়ারী এমপি লিটনের বাড়ির সামনে সেই প্রিয় গাবগাছ তলায় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধে লিটনের শোকে মুহ্যমান অসুস্থ অবস্থায় খুরশিদ জাহান স্মৃতি প্রথম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। 

এসময় তিনি বলেন, ‘বিগত ১৯৯৮ সালের ২৬ জুন সুন্দরগঞ্জ ডি ডাবি¬উ ডিগ্রী কলেজ মাঠে জামায়াত-শিবির আয়োজিত জনসভায় গোলাম আজমের বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। সেসময় ¯^াধীনতা বিরোধী চক্রের এই সভা পন্ড করে দিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ লিটন তার বন্দুক হাতে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ওই জনসভায় প্রবেশ করে গোলাম আজমকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। এতে জনসভাটি পন্ড হয়ে যায়। 

ফলে সেই থেকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বাহিনী লিটনকে যে কোনমূল্যে হত্যার টার্গেট করে রেখেছিল। সেসময় তার গুলিতে আহত জামায়াতের ফতেখাঁ গ্রামের ক্যাডার হেফজসহ আরও দুর্ধর্ষ জামায়াত ক্যাডাররা লিটনকে মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে এবং মোবাইল করে দীর্ঘদিন থেকেই হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল’। 

লিটনকে ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় গুলি করে এই নির্মম হত্যা তারই জের বলে উল্লে¬খ করে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘ওই গোলাম আজমের জামায়াত-শিবিরের খুনিরাই তার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিনি মর্মান্তিক এই হত্যার বিচার চান এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে, লিটন হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃক্সখলা বাহীনির সদস্যরা। প্রতিদিনে লিটনের বাড়ী ঘিরে ও বিভিন্ন সূত্রে তদন্তে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবির নেতকার্মীদের আটক করে। 

এছাড়া হত্যার তথ্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের আটক করা হয় তাদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী। এছাড়া আ.লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকেও আইনশৃক্সখলা বাহিনী ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। 

এ ঘটনার পর অন্তত ৪৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। এরমধ্যে আটজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সাতদিনের রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে সন্দেভাজন আটক অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত: শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহাবাজ গ্রামে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে গুরুত্বর আহত হন এমপি লিটন। পরে এমপি লিটনকে উদ্ধার করে দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান। 

এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদি হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জিল্লুর রহমান পলাশ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি। 


71 নিউজ টিভি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



71 নিউজ টিভি সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

 

Banner 2