Menu
 
       
বাংলাদেশ

নাটোরের হালতিবিলে বিষক্রিয়ায় মরছে মাছ ও জলজ প্রাণী


 
নাটোরের হালতিবিলে বিষক্রিয়ায় মরছে মাছ ও জলজ প্রাণী  3198 
 

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ মৎস্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত নাটোরের হালতিবিল। দেশি মাছের বিপুল সম্ভার বলে খ্যাত এই জলাভূমিকে মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। অথচ এই বিলে অবৈধ বাদাই জালের সাথে ¶তিকারক পাউডার ও বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট দিয়ে অব্যাহত ভাবে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে মাছসহ ডিম বিনষ্ট হওয়াসহ মরছে শামুক, কাঁকড়া, সাঁপ, পোকামাকড়, অনুজীবসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। ফলে নষ্ট হচ্ছে হালতিবিলের জীব ও জীববৈচিত্র্য। বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং দুষিত হচ্ছে পানি। এই ¶তিকর পন্থায় শিকার করা মাছ বিষক্রিয়ায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জন¯^াস্থ্যেরও ¶তি করছে। এছাড়া অবাধে টনকে টন মা মাছসহ মাছের পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারায় ¶তিগ্র¯— হচ্ছে মৎস্য অভয়াশ্রম ও বিল নার্সারী প্রকল্প। এতে মাছ উৎপাদনের ল¶মাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশি¬ষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এবিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশি¬ষ্ট বিভাগকে অবহিত করার পরও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে মৎস্যজীবির অš—রালে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই পন্থায় অবাধেই মাছ শিকার করে যাচ্ছেন। এতে উস্কানি দিচ্ছেন কতিপয় নেতা, জনপ্রতিনিধিরা। 
হালতি বিলের জীব ও জীব বৈচিত্র্য র¶া কমিটির সভাপতি শিশির চন্দ্র দাস জানান, হালতিবিল মাছের নিরাপদ প্রজনন ¶েত্র। মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন সময়ে র“ই জাতীয়সহ দেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এতে নিরাপদে বেড়ে উঠে দেশি মাছ আর মাছের উপর নির্ভরশীল জেলেরাও জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ মাছের এই অভয়াশ্রমে হানা দিয়েছে বিষপ্রয়োগ আতঙ্ক। মৎস্য বিভাগ মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও এবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই।
হালতি বিলের নৌকা চালক মোমিন আলী জানান, বাদাই পার্টিরা ট্যাবলেট ও পাউডার ছিটিয়ে মাছ মারার কারনে মাছ,শামুক,কাঁকড়া মরে ভেসে উঠছে। এসব পচে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আগে কখনও এমন দেখা যায়নি।
পাটুল হাপানিয়া হাই স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শি¶ক এমএ ওয়ায়েস আলী ¶োভ প্রকাশ করে জানান, এই সময় পোনা মাছ মারা নিষিদ্ধ থাকলেও অবাধে মারা হচ্ছে। আর ট্যাবলেট ও পাউডার ছিটিয়ে মাছ মারায় হালতি বিল মাছ সহ জলজ প্রাণি শুন্য হয়ে পড়ছে। 
পিপর“ল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কলিম উদ্দিন জানান, যারা মাছ ধরছে, তাদের নিজ¯^ কোন বাদাই জাল নেই, তারা মৎস্যজীবিও না। প্রতিটি জালই প্রভাবশালী, আড়তদারদের। এভাবে মাছ মারার কারনে দুর্গন্ধযুক্ত এসব মাছ হাটে বাজারে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। 
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আমির“ল ইসলাম জানান, গ্যাস ট্যাবলেট সাধারনত ফসলি জমির গর্তে ও গুদামজাত ফসলে পোকা মাকড় ও ইঁদুর না লাগে সেজন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এটা পানিতে ব্যবহার করার জন্য উপযুক্ত নয়। পানিতে মাছ ধরতে ব্যবহার করলে পানিতে থাকা সকল পোকা মাকড়, অনুজীবসহ সকল প্রাণীজ মারা যাবে। পানি দুষিত হবে, পরিবেশের বির্পযয় ঘটবে।
নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ ইব্রাহিম হামিদ শাহিন জানান, হালতিবিলে একটি অভয়াশ্রমসহ তিনটি বিল নার্সারী রয়েছে। বিলে পানি আসার শুর“তেই এসব বিল নার্সারীর মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ র“ই জাতীয় পোনা মাছ ছাড়া হয়েছে। স¤প্রতি রাজ¯^ খাত থেকে এক মেট্রিক টন র“ই জাতীয় পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০০মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হবে। এছাড়া এই বিলে প্রাকৃতিকগত ভাবে দেশীয় প্রজাতির প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অব্যাহত ভাবে এসব পোনা মাছ বড় হওয়ার আগেই মারা হলে সার্বিকভাবে মাছ উৎপাদনে বির“প প্রভাব পড়বে।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) জেসমিন আক্তার বানু জানান, হালতিবিলে অবৈধ জালে মাছ শিকার বন্ধে  আবারও মৎস্য বিভাগ ও পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


তাপস কুমার
নাটোর


71 নিউজ টিভি'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



71 নিউজ টিভি সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

 

Banner 2